শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
লোকে-লোকারণ্য সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের রাষ্ট্রের যত বড় কর্তাই হউক তাদেরকে জনগনের কাছে জবাবদিহিতা করতেই হবে : সালাহউদ্দিন আহমেদ চকরিয়ায় হাতির আক্রমণে নারীর মৃত্যু টেকনাফে অপহৃত উদ্ধার : অস্ত্র সহ চক্রের ৩ সদস্য আটক প্রাথমিক শিক্ষাকে উন্নত করা গেলে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা টেকনাফের ‘ডাকাত খায়ের’ সহযোগী নারী সহ গ্রেপ্তার কক্সবাজারে ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’ এক শহীদ ও আহত ৪৭ জনকে সহায়তা প্রদান সেন্টমার্টিন থেকে সাগরে ফিরেছে ১৮৩টি কচ্ছপের বাচ্চা লুট করেই ৬ ট্রলার সহ ৫৬ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে ‘মিয়ানমারের নৌবাহিনী’ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা নিহত

অবৈধ কারখানার মিক্সার মেশিনে পিষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

চকরিয়া প্রতিবেদক : চকরিয়ায় ব্লক তৈরীর মিক্সার মেশিনে পিষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) মাগরিবের নামাজের পর চকরিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডস্থ তরছপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৭টায় মরদেহ হাসপাতালে আনলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

নিহত দুই শ্রমিক হলেন, উপজেলার ফাঁশিয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ ঘুনিয়া এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে মো. শাহিন (১৮) ও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডস্থ করাইয়াঘোনার রুহুল কাদেরের ছেলে কামরানুল ইসলাম জিহান (২০)।

স্থানীয় লোকজন জানায়, সরকারী কোন দপ্তর থেকে অনুমতি না নিয়ে মিক্সার মেশিনের হলো ব্লক তৈরীর কারখানাটি চালু করা হয় দুই বছর আগে। এই মেশিনে বালু ও সিমেন্ট মিশিয়ে ব্লক তৈরী করায় একদিকে ওই কারখানার শ্রমজীবিরা জীবন ঝুঁকিতে থাকে, অপর দিকে ওই কারখানা থেকে মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধ পন্থায় আহরিত বালুর সাথে সিমেন্ট মিশিয়ে ব্লক তৈরীর সময় নিকটস্থ পাড়া মহল্লা ও মসজিদ মাদ্রাসা এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে।

এর প্রেক্ষিতে কারখানাটি তৈরীর পরপরই স্থানীয় লোকজন প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোন দপ্তরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।

সেই অবৈধ কারখানায় বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মিক্সার মেশিনটি বন্ধ করে দুই শ্রমিক মেশিনটি পরিস্কার করার সময় হঠাৎ মেশিনটি চালু হয়। এসময় মেশিনের ভিতরে আটকে পড়া শাহিন ও জিসান পিষ্ট হয়। ঘটনাটি প্রথমে মালিকপক্ষ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু অপর শ্রমিকরা তাদের দুই সহকর্মীকে পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৭ টায় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তাদের চেহারা ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ায় চেনার উপায় ছিল না। কিন্তু শ্রমিক ও নিকটাত্মীয়রা নিহত দুই শ্রমিকের পরিচয় সনাক্ত করেন।

সনাক্তের সময় হাসপাতালে আত্মীয়দের আহাজারীতে কয়েকশত মানুষ জড়ো হয়।

জিহানের বড় ভাই জাহেদুল ইসলাম ও বড় বোন তাসমিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ভাই ভুলবশত নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মারা গেছে তদন্ত করতে হবে প্রশাসনকে। এসময় শাহিনের মা হাসপাতালে এসে ছেলে মৃত দেহ দেখেই চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ঘটনার ব্যাপারে মাস্টার মাইন্ড ব্লক ফ্যাক্টরীর মালিক মো. গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ঘটনার পর পরই গিয়াস উদ্দিনকে চকরিয়া থানার আশপাশে ঘুরতে দেখা গেছে বলে চকরিয়া থানার সামনের ব্যবসায়ীসহ অনেকে জানান।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভুঁইয়া জানান, ঘটনাটি শুনেই হাসপাতালে পুলিশের একটি টিম পাঠিয়েছি। ওই টিম প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর মরদেহ ময়নাতদন্ত করতে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

.coxsbazartimes.com

Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themesbcox1716222888